Measles Symptoms Causes Diagnosis Treatment Risk Factors
হাম কি?
হাম বা রুবেওলা একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা মূলত শ্বাসতন্ত্রকে আক্রমণ করে। যদিও এটি প্রতিরোধের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিন রয়েছে, তবুও বিশ্বজুড়ে শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে এটি পরিচিত।
হামের লক্ষণসমূহ
ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার সাধারণত ১০-১২ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দেয়। প্রধান লক্ষণগুলো হলো:
- তীব্র জ্বর
- টানা কাশি ও সর্দি
- গলা ভাঙা বা স্বরভঙ্গ
- মুখের ভেতর সাদাটে দাগ (কোপ্লিক স্পটস)
- ত্বকে ফুসকুড়ি (Rash): এটি হামের প্রধান লক্ষণ। কান বা মাথার দিক থেকে শুরু হয়ে এই ফুসকুড়ি সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় ৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
কেন হয় এবং কীভাবে ছড়ায়?
হামের জন্য দায়ী মূলত মরবিলিভাইরাস (Morbillivirus) পরিবারের একটি ভাইরাস। এটি বাতাসের মাধ্যমে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায়।
- ভাইরাসটি বাতাসে বা কোনো বস্তুর পৃষ্ঠে (যেমন দরজার হাতল) বেশ কিছুক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে।
- আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার ৪ দিন আগে থেকে ৪ দিন পর পর্যন্ত এটি অন্যের শরীরে ছড়াতে পারে।
হামের ঝুঁকি ও জটিলতা
যাদের টিকা নেওয়া নেই, বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। সঠিক চিকিৎসা না হলে হাম থেকে মারাত্মক জটিলতা হতে পারে:
- নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কাইটিস
- এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ)
- কানের সংক্রমণ (যা থেকে বধিরতা হতে পারে)
- অন্ধত্ব ও মারাত্মক ডায়রিয়া
- গর্ভাবস্থায় গর্ভপাত বা অকাল প্রসবের ঝুঁকি
নির্ণয় ও চিকিৎসা
ডাক্তাররা সাধারণত শারীরিক লক্ষণ এবং ত্বকের ফুসকুড়ি দেখে হাম শনাক্ত করেন। নিশ্চিত হওয়ার জন্য রক্ত পরীক্ষা করা হয়।
- চিকিৎসা: ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। লক্ষণ অনুযায়ী ওষুধ (জ্বর বা ব্যথার জন্য) দিয়ে এটি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সাধারণত ২-৩ সপ্তাহে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে।
- জরুরি ব্যবস্থা: ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন বা ৬ দিনের মধ্যে ইমিউনোগ্লোবুলিন ইনজেকশন নিলে রোগের তীব্রতা কমানো সম্ভব।
প্রতিরোধই মূল পথ
হাম প্রতিরোধের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো টিকাদান (Vaccination)।
১. শিশুদের টিকা: ৯-১২ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ৪-৬ বছর বয়সের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া উচিত।
২. সতর্কতা: যারা গর্ভবতী বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত কম, তাদের ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া টিকা নেওয়া উচিত নয়।
আক্রান্ত হলে করণীয়:
- ফুসকুড়ি হওয়ার পর অন্তত ৪ দিন নিজেকে সবার থেকে আলাদা (Isolation) রাখুন।
- হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখুন এবং নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ান।
- পুষ্টিকর খাবার এবং প্রচুর তরল পান করুন। ভিটামিন-এ এর অভাব থাকলে জটিলতা বাড়তে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কোভিড-১৯ পরবর্তী প্রভাব ও সচেতনতা
করোনা মহামারীর কারণে অনেক শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়েছে, যা হামের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া পুষ্টিহীনতা হামের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। তাই আপনার শিশু যদি কোনো ডোজ মিস করে থাকে, তবে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করে টিকা নিশ্চিত করুন।
উপসংহার:
হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সঠিক সময়ে টিকা নিন এবং আপনার শিশুকে এই ভয়ংকর সংক্রামক ব্যাধি থেকে নিরাপদ রাখুন।
আরো পড়ুন -»
- অস্টিওপোরোসিস: কারণ, লক্ষণ, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা
- দাঁতে ব্যথা হলে করণীয়: একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড
- Treatment Hospital, Chittagong
- হৃদরোগ (Cardiovascular Diseases): কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
মনে রাখতে হবে যে, InHealthyLife.com কোন ডাক্তারের সিরিয়াল বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেয়া হয় না।
এ ধরনের আরো পোস্ট পেতে আমাদের web.whatsapp.com গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। আমাদের ওয়েবসাইটে পরিদর্শন করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
বিঃদ্রঃ এই সাইটের সকল তথ্য ফোন নাম্বার এবং ঠিকানা সংশ্লিষ্ঠ হাসপাতাল ও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া, ওয়েব সাইট থেকে সংগৃহিত। আমরা কোন ডাক্তার বা হাসপাতালের চিকিৎসার মানের নিশ্চয়তা দিচ্ছি না। আপনি অবশ্যই নিজ বিবেচনায় চিকিৎসক নির্বাচন করবেন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কোন দ্বায়-দ্বায়িত্ব এই ওয়েব সাইট বহন করিবে না। ধন্যবাদ আপনাকে।
👇 নিচে আপনার মতামত প্রকাশ করুন। 👇
তথ্যসূত্র:
হাম, ওয়েবএমডি: https://www.webmd.com/children/vaccines/what-is-measles
